ভারত উপমহাদেশের ত্বরিক্বতপন্থী দীনী সংগঠনের পারস্পরিক ঐতিহাসিক নেসবতের ইতিকথা

 ভারত উপমহাদেশের ত্বরিক্বতপন্থী দীনী সংগঠনের পারস্পরিক ঐতিহাসিক নেসবতের ইতিকথা                                                                                                                        -মুহাম্মাদ শেখ রমজান হোসেন

- وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّـهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا ۚ

অর্থ : তোমরা আল্লাহর রজ্জু (রশিকে) শক্তভাবে (দৃঢ়ভাবে) আঁকড়ে ধরো এবং পরষ্পর পৃথক(বিচ্ছিন্ন) হয়ো না । (সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১০৩)

বিশ্ব মুসলিম ঐক্যের অগ্রদূত হযরতুল আ’ল্লাম মাওলানা আবুল আনসার মুহাম্মাদ আবদুল ক্বাহহার সিদ্দিকী আল কুরাইশী রহিমাহুমুল্লাহর  জীবনকথা

ফুরফুরা (https://bn.wikipedia.org/wiki/ফুরফুরা_(গ্রাম)) একটি গ্রামের নাম, ফুরফুরা একটি আধ্যাত্মিক দীনী সংগঠনের নাম। ফুরফুরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শ্রীরামপুর মহকুমার জাঙ্গিপাড়া সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকে অবস্থিত। গ্রামটি ফুরফুরা দরবারের শরিয়াত-ত্বরিক্বতভিত্তিক ইশাআতে ইসলাম (ইসলাম প্রচার) এর প্রাণকেন্দ্র রূপে পুরো উপমহাদেশে বিখ্যাত হয়ে আছে।[সূত্রঃ"The Hindu e-Paper Today: ePaper replica of the print newspaper"epaper.thehindu.com] এই গ্রামে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও ইসালে সওয়াব উপলক্ষে প্রতি বছর ফাল্গুন মাসে দেশ-বিদেশ থেকে ফুরফুরা দরবারের খোলাফা, মুবাল্লিগীন, জাকেরিন, সাকেরিন, মুহেব্বীন, মুতাআল্লেকীন, মুতাআকেদীনসহ জাতি-ধর্ম বর্ণ, দলমত নির্বিশেষে আম জনতার ঢল নামে। করে।[তথ্যসূত্রঃ

 "Hooghly District"। Places of Interest, District administration]

উল্লেখ্য, ১৩৭৫ সালে জনৈক মুকলিশ খান কর্তৃক নির্মিত একটি মসজিদকে কেন্দ্র করে এই গ্রামের ইসলামী ইতিহাস শুরু হয়।[সূত্রঃ "West Bengal Tourism Policy, 2008"। Fairs and Festivals Tourism। Government of West Bengal, Department of Tourism]

ফুরফুরা  গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন আগামী দিনের নায়েবে মুজাদ্দেদ,  আমির-উল-ইত্তেহাদ হযরতুল আল্লাম মাওলানা আবুল আনসার মুহাম্মাদ আবদুল ক্বাহহার সিদ্দিকী আল কুরাইশী রহিমাহুল্লাহ

ফুরফুরা নামক এই গ্রামের জাঙ্গিপাড়ায় ১৯৪০ সালে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন আগামী দিনের নায়েবে মুজাদ্দেদ, শেরে ফুরফুরা, আমির-উল-ইত্তেহাদ, যুগশ্রেষ্ঠ মাওয়াহিদ (তাওহীদবাদী), মহিউদ্দীন ওয়াল মহিউস্ সুন্নাহ হযরতুল আল্লাম মাওলানা আবুল আনসার মুহাম্মাদ আবদুল ক্বাহহার সিদ্দিকী আল কুরাইশী রহিমাহুল্লাহ।

বংশ পরিচিতিঃ ফুরফুরা দরবারের প্রাণ প্রতিষ্ঠাতা মোজাদ্দেদে জামান খ্যাত মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মারুফ আবুবকর সিদ্দিকী আল কুরাইশী  রহিমাহুল্লাহর (https://www.google.com/search?client=firefox-b-e&q=ফুরফুরা+দরবারের+পীর+আবু+বকর+সিদ্দিকী+উইকি ) জ্যেষ্ঠ পুত্র শাইখুল ইসলাম আব্দুল হাই সিদ্দিকী রহিমাহুমুল্লাহর (https://bn.wikipedia.org/wiki/= আবদুল+হাই+সিদ্দিকী+উইকি) বড় সাহেবজাদা মাওলানা আবুল আনসার মুহাম্মদ আব্দুল কাহহার সিদ্দিকী রহিমাহুল্লাহ পবিত্র দীন ইসলামের প্রথম খলিফা আমিরুল মুমিনিন আবুবকর সিদ্দিকের رضي الله عنه (https://bn.wikipedia.org/wiki/ আবু_বকর) ৪১ তম অধ্বস্তন পুরুষ।

১. হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা () ইবনে আবদুল্লাহ>২. আবদুল্লাহ ইবনে আবদে মুত্তালিব>৩. আবদে মুত্তালিব ইবনে হাসিম> ৪. হাসিম ইবনে আবদে মানাফ > ৫ মানাফ ইবনে কুসাই >৬.কুসাই ইবনে কিলাব > ৭.কিলাব ইবনে মুররাহ >৮.মুররাহ ইবনে কাব ৯. কাব ইবনে গালিব ১০ গালিব ইবনে ফাহর/ ১১.ফাহর/ফিহর (আল কুরাইশি) ইবনে মালিক।

আবু বকর رضي الله عنه এর বংশ ধারা ১.আবদুল্লাহ ইবনে উসমান> ২. উসমান ইবনে আমির>৩. আমির ইবনে আমর>৪.আমর ইবনে কাব>৫. কাব ইবনে সাদ>৬. সাদ ইবনে তায়িম>৭. তায়িম ইবনে মুররাহ>৮.মুররাহ ইবনে কাব> ৯.কাব ইবনে লুয়াই> ১০.লুয়াই ইবনে গালিব>১১. গালিব ইবনে ফিহর > ১২.ফাহর/ফিহর (আল কুরাইশি) ইবনে মালিক।

৫৭০ খ্রিষ্টাব্দ –হযরত মুহাম্মদ

৫৪৫ খ্রিষ্টাব্দ – আবদুল্লাহ ৪৯৭ খ্রিষ্টাব্দ – আব্দ আল-মুত্তালিব

৪৬৪ খ্রিষ্টাব্দ – হাশিম

৪৩৯ খ্রিষ্টাব্দ – আব্দ মানাফ

৪০৬ খ্রিষ্টাব্দ – কুসাই

৩৭৩ খ্রিষ্টাব্দ – কিলাব

৩৪০ খ্রিষ্টাব্দ – মুররাহ

৩০৭ খ্রিষ্টাব্দ – কা'য়াব

২৭৪ খ্রিষ্টাব্দ – লু'আহ

২৪১ খ্রিষ্টাব্দ – গালিব

২০৮ খ্রিষ্টাব্দ – ফিহর

(সূত্রঃ https://bn.wikipedia.org/wiki/মুহাম্মাদের_বংশধারা)   

বার আউলিয়ার ধন্যভুমি চট্টগ্রামে ফখরে আউলিয়া  হযরত মাওলানা আবদুল কাহহার সিদ্দিকীর তরিকতী জিন্দেগীর ইতিকথা

ফুরফুরা দরবারঃ হুগলি, ভারত থেকে  চট্টগ্রাম,  বাংলাদেশ

ফুরফুরা দরবার বা সিলসিলা-ই-ফুরফুরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হুগলি জেলায় অবস্থিত একটি ইসলাম ধর্মীয় দরবার  ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৬১ সালে হুগলি জেলার হ্যান্ড বুক (ইংরেজি: Hooghly district hand book) নামক গ্রন্থে ও ১৯৭২ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার থেকে প্রকাশিত পশ্চিমবঙ্গ জেলা গ্যাজেটে (ইংরেজি: West Bengal district gazetters; Hooghly) by অমিয় কুমার বাগচী মুসলিমদের ধর্মীয়স্থান নামে অভিহিত করেছেন।(সূত্রঃ সুধীর কুমার মিত্র (১৯৯১)। হুগলি জেলার ইতিহাস ও বঙ্গসমাজ। ৭৮/১, গান্ধী রোড, কোলকাতা: মন্ডল বুক হাউস। পৃষ্ঠা ১৩০১। সৈয়দ মোঃ বাহাউদ্দিন (২০১৭)। যুগ সংস্কারক শাহ আবু বকর সিদ্দিকী। আরামবাগ, হুগলি )।পীর মুজাদ্দেদে জামান মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকী (জন্ম ১৮৪৫-১৯৩৯) (https://www.google.com/search?client=firefox-b-q=ফুরফুরা+দরবারের+পীর+আবু+বকর+সিদ্দিকী+উইকি ) বাংলাদেশের চট্টগ্রাম  জেলার সাতকানিয়া নিবাসী সূফী ফতেহ আলী ওয়ায়েসী রহিমাহুল্লাহ কর্তৃক খেলাফত প্রাপ্তির পর ‘ফুরফুরা গ্রামকে কেন্দ্র করে তরিকতপন্থী আধ্যাত্মিক প্রচারধর্মী (ইশাআতে ইসলাম) দরবার প্রতিষ্ঠা করেন যা উনার অবর্তমানে তদীয় পাঁচ সন্তান যথাক্রমে শাইখুল ইসলাম মাওলানা আবদুল হাই সিদ্দিকী (https://bn.wikipedia.org/wiki/=আবদুল+হাই+সিদ্দিকী+উইকি),আল্লামা আবু জাফর সিদ্দিকী, মাওলানা আবদুল কাদের সিদ্দিকী, মাওলানা নাজমুস সায়াদাত সিদ্দিকী ও মাওলানা জুলফিকার আলী সিদ্দিকী দীন ইসলামের প্রচারকর্ম (ইশাআতে ইসলাম) অব্যাহত রাখেন। তৎপরবর্তীতে শাইখুল ইসলাম হযরত মাওলানা আবদুল হাই সিদ্দিকী রহিমাহুল্লাহর সুযোগ্য আওলাদ (বংশধর) হিসেবে হযরত মাওলানা আবুল আনসার মুহাম্মাদ আবদুল কাহহার সিদ্দিকী আল কুরাইশী, তৎপরবর্তীতে তদীয় জ্যেষ্ঠ পুত্র শাইখুল ইসলাম আল্লামা আবু বকর আবদুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী হাফিজাহুল্লাহ যুগপৎ ভারত-বাংলাদেশের গদ্দীনসীন পীরের দায়িত্বরত আছেন।

নায়েবে মুজাদ্দেদ হযরত  মাওলানা আবদুল কাহহার সিদ্দিকী রহিমাহুল্লাহ তরিকতের জিন্দেগীতে ধারাবাহিকভাবে যথাক্রমে স্বীয় পিতা শাইখুল ইসলাম হযরত মাওলানা আবদুল হাই সিদ্দিকী রহিমাহুল্লাহ ,তদীয় দাদাজান মোজাদ্দেদে জামান হযরত মাওলনা আবু  বকর সিদ্দিকী রহিমাহুল্লাহ সূত্রে উপমহাদেশের প্রখ্যাত আউলিয়া কেরামদের সাথে সম্পর্কিত হন। সেমতে  হযরত মাওলানা আবদুল কাহহার সিদ্দিকী অআল কুরাইশী রহিমাহুল্লাহ যথাক্রমে বাংলাদেশের চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা নিবাসী সুফী ফতেহ আলী ওয়ায়েসী রহিমাহুল্লাহ, (https://bn.wikipedia.org/wiki/ফতেহ_আলী_ওয়াসি)  মীরশ্বরাইয়ের নিজামপুরে অবস্থিত ‘মলিয়াশ’ নামক গ্রামে শায়িত গাজিয়ে বালাকোট  সুফী নূর মোহাম্মাদ নিজামপুরী রহিমাহুল্লাহ(https://www.google.com/search?client=firefox-b-e&q=সুফী+নূর+মোহাম্মাদ+নিজামপুরী), সৈয়দ আহামাদ শহীদ বেরেলভী রহিমাহুল্লাহ (https://www.google.com/search?client=firefox-b-e&q=সৈয়দ+আহামাদ+শহীদ+বেরেলভী+)শাহ আবদুল আজিজ মুহাদ্দিস দেহলভী রহিমাহুল্লাহhttps://www.google.com/search?client=firefox-b-e&q=শাহ+আবদুল+আজিজ+মুহাদ্দিস+দেহলভী)  এবং শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী রহিমাহুল্লাহ https://bn.wikipedia.org/wiki/শাহ_ওয়ালিউল্লাহ_দেহলভী এর সাথে পর্যায়ক্রমিকভাবে আধ্যাত্মিক সম্পর্কে সম্পর্কিত। 

ফুরফুরা দরবারের পীর সাহেব শাইখুল ইসলাম হযরতুল 'আল্লাম মাওলানা আবদুল হাই সিদ্দিকী আল কুরাইশী (রহিমাহুল্লাহ)·

ফুরফুরা দরবারের গদ্দীনসীন পীর হযরতুল আল্লাম আবু নসর মুহাম্মদ আবদুল হাই সিদ্দিকী আল কুরাইশী রহিমাহুল্লাহ ১৯০৩ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার ফুরফুরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ভারতের বিখ্যাত ফুরফুরা দরবারের প্রতিষ্ঠাতা হযরতুল আল্লাম আবদুল্লাহ মারুফ আবু বকর সিদ্দিকী রহিমাহুমুল্লাহর জ্যেষ্ঠ সাহেবজাদা এবং ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক رضي الله عنه এর ৩৯তম বংশধর। হযরতুল আল্লাম আব্দুল হাই সিদ্দিকী রহিমাহুল্লাহ স্থানীয়ভাবে “বড় হুজুর নামে অধিক পরিচিত।[তথ্যসূত্র:"সিদ্দিকী, আবদুল হাই - বাংলাপিডিয়া"। bn.banglapedia.org। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৫-১৪।] 

উল্লেখ্য, চরম নির্যাতনের স্বীকার হয়ে ইসলামের প্রথম খলিফা আমিরুল মুমিনিন হযরত আবুবকর  সিদ্দিক رضي الله عنه ইসলামের নবী ও রসূল হযরত মুহাম্মাদ এর সাথে নবুয়তের দশম বর্ষে মক্কা মুয়াজ্জেমা থেকে হিজরত করে তৎকালীন ইয়াসরিব পরবর্তীতে মদীনা মুনওয়ারা নামক স্থানে গমন করেন। পরবর্তীতে হযরত আবু বকর সিদ্দিক

 رضي الله عنه বংশধররা মধ্য এশিয়ার খোরাসান, ইরাকের বাগদাদে তথা হতে হযরত মানসুর বাগদাদী রহিমাহুল্লাহর মাধ্যমে প্রথমে ভারতবর্ষের মুর্শিদাবাদ তথা হতে মাদানীপুর (মেদীনীপুর)সহ বিভিন্ন এলাকা হয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হুগলি জেলার বালিয়া বাসন্তি এলাকার জাঙ্গি পাড়ায় স্থিতির পর পরবর্তীতে বাংলাদেশের পাবনার পাকশি, ঢাকা, মীরপুরের দারুস সালাম, চট্টগ্রামের পাহাড়তলী, মীরশ্বরাই, ফেনীর লেমুয়াসহ বাংলাদেশের প্রায় সব এলাকায় দীনের তাবলীগ কার্যক্রমের উদ্দেশ্য বিশ্ব ইসলাম মিশন কোরআনী-সুন্নী জমিয়তুল মুসলিমিন হিযবুল্লাহ সংগঠনের মাধ্যমে সিদ্দিকীয়া বংশ ছড়িয়ে পড়ে। [সূত্রঃ ১)২৪ ঘন্টার আমলঃ শায়খ আবুবকর আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী, গদ্দীনশীন পীর, ফুরফুরা,প্রকাশনায়ঃ ইশাআতে ইসলাম কুতুবখানা, ২/২, দারুস সালাম, মিরপুর, ঢাকা, www.furfura.com]

পিতা আল্লামা আবদুল হাই সিদ্দিকী আল কুরাইশী রহিমাহুল্লাহর মৃত্যুর পর ১৯৭৭ ঈসাব্দে বাংলা-ভারত উপমহাদেশের সুপ্রাচীন শারিয়াত-ত্বরিকাতপন্থী ঐতিহ্যবাহী ফুরফুরা দরবারের গদ্দীনশীন পীর হন  হযরত মাওলানা আবুল আনসার মুহাম্মাদ আবদুল ক্বাহহার সিদ্দিকী আল কুরাইশী রহিমাহুল্লাহ সাহেব। বাংলা-ভারত ছাড়াও যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, সৌদী আরব, আবুধাবীসহ মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে অনেক দেশ-রাষ্ট্রে সুদীর্ঘ ২৯ বছরব্যাপী ইসলাম প্রচারের পর ২০০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকার দারুস সালামে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। (সূত্রঃ https://www.linkedin.com/pulse/ফরফরর-পর-মওলন-আবল-আনসর-মহমমদ-আবদল-কহহর-সদদক-আল-করইশর-রহমহললহ-hossain/)

 ফখরে আউলিয়া ফুরফুরা দরবারের পীর মাওলানা আবুল আনসার মুহাম্মাদ আবদুল কাহহার সিদ্দিকী আল কুরাইশী (রহিমাহুল্লাহ):ফুরফুরা থেকে চট্টগ্রাম

নির্ভরযোগ্য প্রাচীন বাংলার ইতিহাসসূত্রে জানা যায় যে, পাক-বাংলা-ভারত উপমহাদেশে সাগর পথে ইসলামের প্রবেশ ঘটেছিল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটাত্মীয় মামা সম্পর্কের হযরত আবু ওয়াক্কাস রদ্বিয়াল্লাহ আনহু আরব সাগর পথে বঙ্গোপসাগর উপকূল অতিক্রম করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় পথে চীনের ক্যান্টনে যাওয়ার পথে চট্টগ্রাম বন্দরে যাত্রাবিরতিকালে এদেশে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবৎকালেই এই উপমহাদেশে ইসলামের প্রবেশ ঘটে। এ কারণে চট্টগ্রামকে বলা হয় বাবল ইসলাম অর্থাৎ ইসলামের প্রবেশ উল্লেখ্য, রংপুর জেলার ইতিহাস গ্রন্থ থেকে জানা যায়, রাসুল ()-এর মামাজান, মা আমেনার চাচাতো ভাই আবু ওয়াক্কাস (রদ্বিয়াল্লাহ আনহু) ৬২০ থেকে ৬২৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার করেন (পৃ. ১২৬)। অনেকে অনুমান করেন, রংপুরের পঞ্চগ্রামের মসজিদটিও তিনি নির্মাণ করেন যা ৬৯০ খ্রিষ্টাব্দে সংস্কার করা হয়।

 দেশের প্রথম ও প্রাচীন এই মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে ২১ ফুট ও প্রস্থ ১০ ফুট। মসজিদের ভিতরে রয়েছে একটি কাতারের জন্য ৪ ফুট প্রস্থ জায়গা। মসজিদের চার কোণে রয়েছে অষ্টকোণ বিশিষ্ট স্তম্ভ। ধ্বংসাবশেষ থেকে মসজিদের চূড়া ও গম্বুজ পাওয়া গেছে।  মতিউর রহমান বসুনিয়া রচিত ‘রংপুরে দ্বীনি দাওয়াত গ্রন্থেও এই মসজিদের বিশদ বিবরণ আছে।

ফুরফুরা দরবারঃ হুগলি, ভারত থেকে বাংলাদেশে বাবল ইসলাম (ইসলামের প্রবেশদ্বার) ইসলামাবাদ চট্টগ্রাম

হযরত উপমহাদেশের প্রখ্যাত পীর-ই-কামেল বাংলাদেশের চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা নিবাসী সুফী ফতেহ আলী ওয়ায়েসী রহিমাহুল্লাহ (https://bn.wikipedia.org/wiki/ফতেহ_আলী_ওয়াসি), তদীয় পীর মীরশ্বরাইয়ের নিজামপুরে অবস্থিত ‘মলিয়াশ নামক গ্রামে শায়িত গাজিয়ে বালাকোট সুফী নূর মোহাম্মাদ নিজামপুরী রহিমাহুল্লাহ(https://www.google.com/search?client=firefox-b-e&q=সুফী+নূর+মোহাম্মাদ+নিজামপুরী) তদীয় পীর সৈয়দ আহামাদ শহীদ বেরেলভী রহিমাহুল্লাহর খলিফা, তদীয় পীর (https://www.google.com/search?client=firefox-b-e&q=সৈয়দ+আহামাদ+শহীদ+বেরেলভী+)শাহ আবদুল আজিজ মুহাদ্দিস দেহলভী ছিলেন (https://www.google.com/search?client=firefox-b-e&q=শাহ+আবদুল+আজিজ+মুহাদ্দিস+দেহলভী) উপমহাদেশে আধ্যাত্মিক জগতের প্রাণ পুরুষ শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী রহিমাহুমুল্লাহ https://bn.wikipedia.org/wiki/শাহ_ওয়ালিউল্লাহ_দেহলভী এর সাহেবজাদা-এই সূত্রে রূহানী সম্পর্কে সম্পর্কিত ছিলেন ফুরফুরা দরবারের গদ্দীনসীন পীর হযরতুল আল্লাম মাওলানা আবুল আনসার মুহাম্মাদ আবদুল কাহহার সিদ্দিকী রহিমাহুল্লাহ।

ফুরফুরা দরবারের পীর সাহেব শাইখুল ইসলাম হযরতুল 'আল্লাম মাওলানা আবদুল হাই সিদ্দিকী আল কুরাইশী (রহিমাহুল্লাহ)·

  ফুরফুরা দরবারের গদ্দীনসীন পীর হযরতুল আল্লাম আবু নসর মুহাম্মদ আবদুল হাই সিদ্দিকী আল কুরাইশী রহিমাহুল্লাহ ১৯০৩ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার ফুরফুরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ভারতের বিখ্যাত ফুরফুরা দরবারের প্রতিষ্ঠাতা হযরতুল আল্লাম আবদুল্লাহ মারুফ আবু বকর সিদ্দিকী রহিমাহুল্লাহর জ্যেষ্ঠ সাহেবজাদা এবং ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক رضي الله عنه এর ৩৯তম বংশধর। হযরতুল আল্লাম আব্দুল হাই সিদ্দিকী রহিমাহুল্লাহর স্থানীয়ভাবে “বড় হুজুর নামে অধিক পরিচিত।[তথ্যসূত্র:"সিদ্দিকী, আবদুল হাই - বাংলাপিডিয়া"। bn.banglapedia.org। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৫-১৪।] 

ফুরফুরা দরবারের প্রতিষ্ঠাতা মুজাদ্দেদে জামান হযরত আবু বকর সিদ্দিকী রহিমাহুল্লাহ

ফুরফুরা গ্রামের অস্তিত্ব বহু পূর্ব থেকে থাকলেও এই দরবার প্রতিষ্ঠা করেন পীর আবু বকর সিদ্দিকী রহিমাহুল্লাহ, মূলত তিনি সিলসিলা-ই-ফুরফুরা দরবারের প্রতিষ্ঠাতা [ Choudhury, Dewan Nurul Anwar Hussain (২০১২)। "Siddiqi, Abdul Hai"। Islam, Sirajul; Jamal, Ahmed A.। Banglapedia: National Encyclopedia of Bangladesh (Second সংস্করণ)। Asiatic Society of Bangladesh।। তাঁকে হিজরী চতুর্দশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ বলা।

আনুমানিক ১৯০০ সালের দিকে এই দরবার প্রতিষ্ঠা হয়। মুজাদ্দেদে জামান রহিমাহুল্লাহর অবর্তমানে এই দরবার শরীফের মূল ব্যক্তিত্ব ছিলেন পীর আবু বকর সিদ্দিকী রহঃ এর পাঁচ সাহেবজাদা ।

অবদান

পীর আবু বকর সিদ্দিকী রহিমাহুল্লাহ ছিলেন একজন সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কারক, উনাকে মোজাদ্দেদ জামান বা যুগের সমাজ সংস্কারক বলা হয়। তিনি দাতব্য প্রতিষ্ঠান, এতিমখানা, চিকিৎসা কেন্দ্র, মাদ্রাসা, বিদ্যালয় ও শিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি নারী শিক্ষায় অবদান রেখেছিলে। তিনি ‘সিদ্দিকা উচ্চ বিদ্যালয় নামে ফুরফুরা দরবারের অধীনে মেয়েদের জন্য একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। সিদ্দিকী সামাজিক অপরাধ দূর করার লক্ষ্যে বহু সামাজিক কর্মকান্ডের সা জড়িত সাথে জড়িত ছিলেন, এসব কাজের মধ্যেই সমস্ত জীবন ব্যয় করেছেন।

মুজাদ্দেদে জামান হযরত মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকী রহিমাহুল্লাহ একজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি ছিলেন, ফুরফুরা দরবার পরিচালিত মাদ্রাসার দরিদ্র ছাত্রদের তিনি বিনা মূল্যে বা অতি সামান্য মূল্যে বোর্ডিং সুবিধা দিয়ে সাহায্য করেছিলেন। তিনি অনেক ইসলামি পত্রিকা এবং সংবাদপত্রের পৃষ্ঠপোষকতাও করেছেন, পত্রিকাগুলোর মধ্যে সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা মুসলিম হিতৈষি অন্যতম। উনার পরবর্তী পীর সন্তানেরা তদীয় পিতার চলমান এসকল কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছিলেন। এছাড়াও আবু বকর সিদ্দিকী রহিমাহুমুল্লাহ একজন দেশপ্রেমিক ছিলেন, তিনি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকে বেগবান করতে সক্রিয় ছিলেন। উনার ভক্তের পরিধি কালক্রমে পশ্চিম বঙ্গ, বিহার আসাম ও বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) জুড়ে বিস্তার লাভ করে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন মুজাদ্দেদে জামান। ধর্ম ও সমাজ উন্নয়নমূলক উনার এবং পরবর্তী পীরসমূহের কার্যক্রম বিভিন্ন বুদ্ধিজীবী ও আলেম কর্তৃক প্রশংসিত হয়ে থাকে।

 ফুরফুরার পীর সাহেবদের অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রতিষ্ঠিত এসব মাদ্রাসা একসময় পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বিদ্যাকেন্দ্রে পরিণত হয়। উল্লেখ্য,  পূর্ববঙ্গের প্রসিদ্ধ ফরায়েজী আন্দোলনের প্রবর্তক হাজী শরীয়তুল্লাহ ফুরফুরাতে এসে আরবি ও ফার্সী ভাষা শিক্ষাগ্রহণ করেন।[সূত্রঃ ১. ডঃ এম, এ রহিম (১৯৯৪)। বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস। ঢাকা, বাংলাদেশ: আহমদ পাবলিশিং হাউস। পৃষ্ঠা ৭৪। ২. ডঃ অমলেন্দু দে (১৯৯১)। বাঙালি বুদ্ধিজীবী ও বিচ্ছিন্নতাবাদ। কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষদ। পৃষ্ঠা ৪৬।    

 মুজাদ্দেদে জামান রহ প্রবর্তিত বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও ইসালে সওয়াব

এই দরবারের সকল দীনী কার্যক্রমের মধ্যে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও ইসালে সওয়াব সবচেয়ে দৃষ্টি আকর্ষণীয় বিষয়। এতে দেশ বিদেশের লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটে থাকে। একসময় এই ধর্মীয় সমাবেশকে ফুরফুরা শরীফের মেলা বা দাদাপীরের উরস উৎসবের মেলা নামে পরিচিত ছিল। [সূত্রঃব্রহ্ম, তৃপ্তি (১৯৮৮)। বাংলার লৌকিক ধর্মসংগীত। কলকাতা। পৃষ্ঠা ৩৬২।] পরবর্তিতে মুজাদ্দেদে জামান  আবু বকর সিদ্দিকী রহিমাহুল্লাহ এই ধর্মীয় সমাগমের নাম দিয়েছিলেন ঈসালে সাওয়াব। প্রতিবছর বাংলা বর্ষপঞ্জির ফালগুন মাসের ২১, ২২ ও ২৩ তারিখে (ইংরেজি মার্চ মাসের ৫, ৬ ও ৭ তারিখ) এই ঈসালে সাওয়াব অনুষ্ঠিত হয়।[সূত্রঃ১. Qadri, M. Aqib Farid। "Conveying Rewards to the Deceased (Isaale Sawaab)", Islamic Academy.

       ২.  "Dariapur Sharif's Isale Sawab on Jan 17". Financial Express, 14 January 2008.] এই দরবারের সকল দীনী কার্যক্রমের মধ্যে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও ইসালে সওয়াব সবচেয়ে দৃষ্টি আকর্ষণীয় বিষয়। এতে দেশ বিদেশের

মুজাদ্দেদে জামান হযরত আবু বকর সিদ্দিকী রহিমাহুল্লাহ কর্তৃক প্রবর্তিত এই বার্ষিক দীনী ওয়াজ মাহফিল ও ইসালে সওয়াব প্রতিবছর নির্ধারিত দিন-তারিখে ভারতের ফুরফুরা ছাড়াও বর্তমানে বাংলাদেশের পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশিতে ফাল্গুন মাসে, ঢাকার মীরপুর দারুস সালামে পৌষ মাসে এবং চট্টগ্রামের দেওয়ানহাট ওভার ব্রীজ সংলগ্ন ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড রেলওয়ে কলোনী ময়দানে প্রতি বছর নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে মুজাদ্দেদে জামান রহিমাহুল্লাহর সুযোগ্য উত্তরসূরীদের পরিচালনায়।    

মুজাদ্দেদে জামান হযরত আবু বকর সিদ্দিকী রহিমাহুল্লাহ কর্তৃক প্রবর্তিত এই বার্ষিক দীনী ওয়াজ মাহফিল ও ইসালে সওয়াব প্রতিবছর নির্ধারিত দিন-তারিখে ভারতের ফুরফুরা ছাড়াও বর্তমানে বাংলাদেশের পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশিতে ফাল্গুন মাসে, ঢাকার মীরপুর দারুস সালামে পৌষ মাসে এবং চট্টগ্রামের দেওয়ানহাট ওভার ব্রীজ সংলগ্ন ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড রেলওয়ে কলোনী ময়দানে প্রতি বছর নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে মুজাদ্দেদে জামান রহিমাহুল্লাহর সুযোগ্য উত্তরসূরীদের পরিচালনায়।  

এইসব বার্ষিক মাহফিলের শুরুতে তিলাওয়াতে কুরআন, হামদ-নাত অতঃপর বাদ মাগরিব সিলসিলার রেওয়াজমতে সূরাহ-কেরাত, দোয়া দরুদের মাধ্যমে সওয়াব রেসানীসহ নির্ধারিত ওজিফার সবক দেয়া হয় মাহফিলে আগত শ্রোতামন্ডলীকে।

 অতপর একের পর এক দরবারের দাওয়াতপ্রাপ্ত এলাকার খ্যাতনামা অআলেম-উলামা, পীর বুজুর্গানে দীনের ওয়াজ তাকরিরের এক পর্যায়ে ফুরফুরা দরবারের গদ্দীনসীন পীর সাহেবের আগমন ঘটলে অপেক্ষমান মুরীদ-মুহেব্বীন,জাকেরিন, সাকেরিন, মুতাআল্লেকীন, মুতাআকেদীনরা বুলন্দ আওয়াজে  তাকবির ধ্বনির মধ্য দিয়ে পীর সাহেবকে ইস্তিকবাল করা হয়। এরপর পীর সাহেবের ঈমানী, রুহানী, দীনী তাকরীর শুরু হয়। এ মাহফিলে মুরীদ-মুহেব্বীন, খেলাফাতপ্রাপ্ত উলামায়ে কেরাম, বুজুর্গানে দীন ছাড়াও অন্যান্য তরিকার, দল-মতের শ্রোতাবৃন্দও উপস্থিত থাকেন।    

ফুরফুরা দরবারের মূল কথাঃ

ফুরফুরা দরবারের মূল মিশন-ভিশন কী? যে মিশন-ভিশন নিয়ে ফুরফুরার পীর সাহেববৃন্দ যুগে যুগে অক্লান্ত পরিশ্রম করে পথহারা মানুষকে পথের সন্ধান দিয়ে যাচ্ছেন । এ ব্যাপারে নায়েবে মুজাদ্দেদ রহিমাহুল্লাহর সুস্পষ্ট এবং দ্ব্যর্থহীন ঘোষণাঃ 

► সিজদাহ একমাত্র আল্লাহর জন্য। 

► হতে হয় হয়ে যাও সর্বহারা, কিন্তু ঈমান হারা হবেন না। ঈমান হারার স্থান চিরকাল জাহান্নাম

► গুনাহগার হতে পারে, খাতাকার হতে পারে, যতক্ষণ না কুফরে পৌঁছে-সে আমার ভাই”/

চট্টগ্রামভিত্তিক বিভিন্ন তরিকতপন্থী সংগঠনের সাথে ফুরফুরা দরবারের নেসবতনামা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্গত  হুগলি জেলায় অবস্থিত  ফুরফুরা দরবারের সাথে বাংলাদেশের বিভাগীয় জেলা  চট্টগ্রামের প্রখ্যাত পীর হযরত সূফী ফতেহ আলী ওয়ায়েসী রহিমাহুল্লাহর সূত্রে উপমহাদেশের প্রখ্যাত বুজুর্গানে দীন শাহ ওয়ালি উল্লাহ মুহাদ্দেস দেহলভী রহিমাহুল্লাহ পর্যন্ত সিলসিলাগত ঈমানী, রুহানী যে নেসবত তা আজও অটুট, বিদ্যমান।

"তিনি (আবুবকর সিদ্দিকী রহ.) ইলমে তাছাউফের শিক্ষার জন্য শাহ সুফি ফতেহ আলী ওয়াইসীর নিকট বাইয়াত গ্রহণ করেন। ইলমে তরিকত ও তাছাউফের চারধারার মাসয়ালা শিক্ষা করেন। তার সাহচর্যে থেকে কার্যকরিভাবে রিয়াজত মোজাহাদা করেন। পাশাপাশি তার সান্নিধ্যে চার তরিকার নিয়ম নীতি অনুযায়ী জিকিরের অনুশীলন পূর্বক খিলাফত লাভ করেন। এই পীর (ফতেহ আলী ওয়াইসী) ১৮৮৬ সালে আবু বকর সিদ্দিকীর কোলে মাথা রেখেই ইন্তেকাল করেন। [https://bn.wikipedia.org/wiki/আবু_বকর_সিদ্দিকী_(পীর)]

কথিত আছে যে,  মুর্শিদে বরহক সুফী ফতেহ আলী ওয়ায়েসী রহিমাহুল্লাহ মুজাদ্দেদে জামান রহিমাহুল্লাহকে "আমার খোলা বক্স", এবং শামসুল উলামা হযরত মাওলানা  গোলাম সালমানী রহিমাহুল্লাহকে বলতেন "বন্ধ বক্স"।   

ফখরে চাটগাম ওলিকূল শিরোমণি সুফী ফতেহ আলী ও‌য়ায়েসি রহিমাহুল্লাহর সংক্ষিপ্ত নূরানী জীবন কাহিনী

চট্টগ্রাম জেলার ‘দক্ষিণাংশে সাতকানিয়া উপজেলার আমিরাবাদের মল্লিক সুবহান গ্রামের হাজীপাড়ায় সুফী ফতেহ আলী ও‌য়ায়েসি রহিমাহুল্লাহ. জন্ম গ্রহণ করেন। পিতার নাম  সৈয়দ ওয়ারেস আলী 

শানে ওয়ায়েসী গ্রন্থের উল্লেখ মতে জন্ম সন ১৮১৫/১৬ এবং ইন্তেকাল করেন ৮ই রবিউল আওয়াল, ১৩০৪ হিজরি মোতাবেক ৬ই ডিসেম্বর, ১৮৮৬ সাল রোজ রবিবার। দাফন করা হয় ২৪/১, মুন্সিপাড়া লেইন, মানিকতলা, কলিকাতা, ভারতে।

১৭৯টি গজল এবং ২৩টি কছিদা নিয়ে একটি কাব্য রচনা করে ইশকে রসুল এর জীবন্ত প্রমাণ রাখেন সুফী ফতেহ আলী রহ. রসুলনূমা।

সুফী ফতেহ আলী রহ. কাদেরিয়া,চিশ্তিয়া, নক্সবন্দিয়া, মুজাদ্দেদিয়া এবং করণিয়া তরিকায় আধ্যাত্মিক রিয়াজত সাধনা করতেন।

সুফী ফতেহ আলী রহ.এর কাশফ, কারামত, উন্নত চরিত্রের কথা চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়লে ফুরফুরা, ভারতের মুজাদ্দেদে জামান আবু বকর সিদ্দিকী ফুরফুরাভী রহ. এবং শামসুল উলামা হযরত গোলাম সালমানী আব্বাসী ফুরফুরাভী রহ.,ফরিদপুরের মৌলভী আবদুল কাদের রহ. এবং সুরেশ্বরের মৌলভী আহমদ আলী রহ., ঢাকার মৌলভী আমজাদ আলী রহ., মদীনা শরীফের মৌলভী সৈয়দ আজম হোসাইন রহ. প্রমুখসহ তৎকালীন শীর্ষ স্থানিয় আরেফে বিল্লাহ, আলিমে বিল্লাহ সংস্পর্শে আসেন যাদের প্রশংসায় পন্চমুখ ছিলেন ।

  বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্যদূতঃ আমিরুল ইত্তেহাদ ফুরফুরার পীর আবদুল কাহহার সিদ্দিকী আল কুরাইশী (রহঃ)

بِسۡمِ ٱللهِ ٱلرَّحۡمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِِ

বিশ্ব ইসলাম মিশন কুরআনী-সূন্নী জমিয়তুল মুসলিমিন হিযবুল্লাহর وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّـهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا ۚ “তোমরা আল্লাহর রজ্জু (রশিকে) শক্তভাবে (দৃঢ়ভাবে) আঁকড়ে ধরো এবং পরষ্পর পৃথক(বিচ্ছিন্ন) হয়ো না” সূরা আলে ইমরানের ১০৩ নং-আয়াত খচিত ইসলামী ঐক্যের পতাকা নিয়ে ইসলামী উম্মাহর ঐক্যদূত সিদ্দিকে আকবার رضي الله عنه এর সুযোগ্য ওয়ারিশ, প্যান ইসলামিজমের স্বপ্নদ্রষ্টা জামাল উদ্দিন আফগানী রহিমাহুল্লাহ এর উত্তরসূরী আমিরুল ইত্তেহাদ, নায়েবে মুজাদ্দিদ মাওলানা আবুল আনসার মুহাম্মাদ আবদুল ক্বাহহার সিদ্দিকী আল কুরাইশী রহিমাহুল্লাহ দেশ-বিদেশে ওয়াজ-নসিহত, মুখপত্র নেদায়ে ইসলামসহ সিদ্দিকীয়া কুতুবখানা থেকে কুরআন-হাদিস রিসার্চ করে প্রকাশিত জ্ঞানগর্ভ মূল্যবান কিতাবাদি প্রকাশ করে আমৃত্যু ইত্তেহাদের বিশ্ব ভিখারি, কাঙ্গাল হয়ে বৃহত্তর ইসলামী ঐক্য প্রতিষ্ঠায় যে নিরলস রিয়াজাত-মেহনত করে গেছেন- তা স্মরণকালের ইসলামের ইতিহাসে অনন্য-অসাধারণ।  

ফুরফুরা-চুনতি দরবারের দীনী নেসবতনামাঃ ফুরফুরা দরবারের পীর মুজাদ্দেদে জামান হযরত মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকী আল কুরাইশী রহিমাহুল্লাহ এর পীর ভাই->শামসুল উলামা হযরত মাওলানা গোলাম সালমানী রহিমাহুল্লাহ এর খলিফা>হযরত মাওলানা-বারী শাহ রহিমাহুল্লাহ এর খলিফাহযরত মাওলানা হাফেজ হামেদ হাসান আলভী আজমগড়ী (রহিমাহুল্লাহ)এঁর খলিফাহযরত মাওলানা নজির শাহ রহিমাহুল্লাহ।

ফুরফুরা-গারাংগিয়ার নেসবতনামাঃ মুজাদ্দেদে জামান হযরত মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকী আল কুরাইশী রহ. এর পীর ভাই->শামসুল উলামা হযরত মাওলানা গোলাম সালমানী রহিমাহুল্লাহ. এর খলিফা>হযরত মাওলানা-বারী শাহ রহিমাহুল্লাহ এর খলিফা>হযরত মাওলানা হামেদী আজমগড়ি রহিমাহুল্লাহ এর খলিফাশাহ মুহাম্মাদ আবদুল মাজিদ রহিমাহুল্লাহ।

ফুরফুরা-বায়তুশ শরফ নেসবতনামাঃ মুজাদ্দেদে জামান হযরত মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকী আল কুরাইশী রহিমাহুল্লাহ এর খলিফা >মীর মুহাম্মাদ মাসউদ রহিমাহুল্লাহ এর সাহেবজাদা> বায়তুশ শরফের প্রতিষ্ঠাতা মীর মুহাম্মাদ আখতর রহিমাহুল্লাহ।

মোজাদ্দেদে জামান আবু  বকর সিদ্দিকী আল কুরাইশী রহিমাহুল্লাহর সাথে  শামসুল উলামা  গোলাম সালমানী রহিমাহুল্লাহর আধ্যাত্মিক নেসবতের ইতিকথা

"১৯ শতকের শেষের দিকে ফরায়েজি ও তরিকায়ে মুহাম্মদিয়া আন্দোলনের তীব্রতা প্রশমিত হয়ে আসলে মুসলিমরাও কিছুটা দুর্বল ছিলো"।[সূত্রঃ ডঃ ওয়াকিল আহমদ (১৯৮৩)। উনিশ শতকে বাঙালি মুসলমানের চিন্তা-চেতনার ধারা। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলা একাডেমি। পৃষ্ঠা ১৫০।

 "মুসলিমদের মধ্যে নানা বিভক্তি ছিলো, বিভিন্ন স্থানে মুসলিমরা ভিন্ন ধর্ম গ্রহণ করলে আবু বকর চিন্তিত হয়ে পড়েন"।[ সূত্রঃ ডঃ অমলেন্দু দে (১৯৯১)। বাঙালি বুদ্ধিজীবী ও বিচ্ছিন্নতাবাদ। 8th Floor, 6-A, Raja Subodh Mullick Square Rd, Bowbazar, Kolkata, West Bengal 700013: পঃ বঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষদ। পৃষ্ঠা ১১৯]।

 "তিনি মুসলিম উম্মাহের ঐক্যতা নিয়ে কাজ করতে মনস্থ হন, এবং দুই বাংলার শিরকী, বিদিয়াতি, কুসংস্কার প্রভৃতি দূরীভূত করার চেষ্টা চালান"।[ শাহ আবু বকর সিদ্দিকীঃ সৈয়দ মোঃ বাহাউদ্দিন ২০১৭, পৃ. ২৩।]

"তার এই কাজে সহযোগিতা করেছিলেন যেসব আলেম তাদের মধ্যে শামসুল উলামা গোলাম সালমানী (১৮৫৪ - ১৯১২) আল্লামা লুতফর রহমান বর্ধমানী (মৃঃ ১৯২০), আল্লামা এসহাক বর্ধমানী (মৃঃ ১৯২৮), বেলায়েত হােসেন বীরভূমী (১৮৮৭), আবদুল ওয়াহেদ চাটগামী (মৃঃ ১৯১০), মুহাম্মদ মঙ্গলকোটি বর্ধমানী (মৃঃ ১৯০৭) উল্লেখযোগ্য।[ সূত্রঃ

মাওলানা নূর মোহাম্মদ আ'জামী (১৯৯৭)। হাদিসের তত্ব ও ইতিহাস। দিল্লি, ভারত: বাংলা ইসলামিক একাডেমী। পৃষ্ঠা ১৫০।

ওলামা সংগঠন (২০০১)। মুসলিম মনীষী (সংকলন)। ঢাকা, বাংলাদেশ: ইসলামিক ফাউন্ডেশন। পৃষ্ঠা ৩১৫৩৪১।

সৈয়দ মোহঃ বাহাউদ্দিন (২০১৭)। আবু বকর সিদ্দিকী। আরামবাগ, হুগলি: সৈয়দ মোহাম্মদ হামযাহ। পৃষ্ঠা ২৪] এছাড়াও বিভিন্ন হাদিস ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যপারে সাহায্য করেছেন আবদুল আউয়াল জৌনপুরী ও কারামত আলী জৌনপুরী। এরা উভয়ই প্রভাবশালী লেখক ছিলেন।] শাহ সুফি ফতেহ আলী ওয়াইসী রহিমাহুল্লাহর অন্যতম খলিফা শামসুল উলামা হযরত মাওলানা গোলাম সালমানী  আব্বাসী রহিমাহুল্লাহ ১৮৫৪ সালের ১লা জুলাই মতান্তরে জানুয়ারি মাসে ভারতের হুগলি জেলার ফুরফুরা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।  তাঁর বাবা ছিলেন বাংলার অন্যতম বিখ্যাত মুন্সেফ, মৌলভী গোলাম রব্বানী। সালমানী সাহেবের দাদা মুন্সী গোলাম কেরমানী ছিলেন একজন উকিল এবং রসূলুল্লাহ  এর বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস رضي الله عنه বংশধর।[সূত্রঃ The Indian Biographical Dictionary (1915)/Ghulam Salmani|]  হযরত মাওলানা গোলাম সালমানী  আব্বাসী রহিমাহুল্লাহ ১৯১২ সালের ১লা জুলাই ইন্তেকাল করেন।  ‌

শাজরা নামা

গোলাম সালমানী সাহেব রহিমাহুল্লাহর পীরদের ঊর্ধ্বতন আধ্যাত্মিক সাধকদের তালিকা নিম্নরূপঃ

 

 

হযরত মুহম্মদ

আবু বকর رضي الله عنه

সালমান ফারসী رضي الله عنه

কাসেম ইবনে মুহম্মদ ইবনে আবু বকর রহিমাহুল্লাহ

জাফর সাদেক রহিমাহুল্লাহ

বায়েজীদ বোস্তামী রহিমাহুল্লাহ

আবুল হাসন খরকানী রহিমাহুল্লাহ

আবু আলী ফজল ফর্মদী রহিমাহুল্লাহ

আবূ ইয়াকূব ইঊসুফ হমদানী রহিমাহুল্লাহ

আব্দুল খালেক গেজদবানী রহিমাহুল্লাহ

খাজা মুহম্মদ আরেফ রেওগরী রহিমাহুল্লাহ

মাহমূদ আঞ্জীর ফগনবী রহিমাহুল্লাহ

আজীজান আলী রামেতানী রহিমাহুল্লাহ

মুহম্মদ বাবা সমাসী রহিমাহুল্লাহ

সৈয়দ শামসুদ্দীন আমীরে কুলাল রহিমাহুল্লাহ

বাহাউদ্দিন নকশবন্দ বুখারী রহিমাহুল্লাহ

সৈয়দ মীর আলাউদ্দীন আত্তার রহিমাহুল্লাহ

ইয়াকূব ইবনে ওছমান ইবনে মাহমূদ চরখী রহিমাহুল্লাহ

খাজা নাসেরউদ্দীন ওবায়দুল্লাহ ইবনে মাহমূদ ইবনে শহাবউদ্দীন আহরার রহিমাহুল্লাহ

খাজা মহম্মদ জাহেদ ওখশী রহিমাহুল্লাহ

খাজা দরবেশ মহম্মদ রহিমাহুল্লাহ

খাজা মহম্মদ ইবনে দরবেশ মহম্মদ আমকেঙ্গী রহিমাহুল্লাহ

খাজা রজীউদ্দীন বাকী বিল্লাহ ইবনে আব্দুস সালাম সমরকন্দী রহিমাহুল্লাহ

মুজদ্দিদে আলফে ছানী আহমদ ফারূকী সিরহিন্দী  রহিমাহুল্লাহ

সৈয়দ আদম বন্নূরী রহিমাহুল্লাহ

সৈয়দ আব্দুল্লাহ আকবরাবাদী রহিমাহুল্লাহ

শাহ আব্দুর রহীম দেহলবী রহিমাহুল্লাহ

কুতুবউদ্দীন আহমদ শাহ ওলীউল্লাহ ইবনে আব্দুর রহীম মুহদ্দিছে দেহলভী রহিমাহুল্লাহ

শাহ আব্দুল আজীজ ইবনে ওলীউল্লাহ ওমরী মুহদ্দিছে দেহলভী রহিমাহুল্লাহ

সৈয়দ আহমদ ইবনে ইরফান হাসনী রায়বেরলবী রহিমাহুল্লাহ

নূর মোহাম্মদ নিজামপুরী রহিমাহুল্লাহ

ফতেহ আলী ইবনে ওয়ারেছ আলী ওয়াসী রহিমাহুল্লাহ

গোলাম সালমানী ইবনে গোলাম রব্বানী ইবনে গোলাম কেরমানী আব্বাসী হুগলবী রহিমাহুল্লাহ (সূত্রঃ https://bn.wikipedia.org/wiki/ব্যবহারকারী:Jaunpurzada/গোলাম_সালমানী    

গোলাম সালমানী ইবনে গোলাম রব্বানী ইবনে গোলাম কেরমানী আব্বাসী হুগলবী রহিমাহুল্লাহর জীবিনী

শিক্ষা জীবনঃ কলিকাতার আলিয়া মাদরাসা হতে সর্বোচ্চ দীনী শিক্ষা হাসিল করেন।

কর্মজীবনঃ প্রথমে হুগলি গবর্ণমেন্ট মোহসেনিয়া মাদরাসায় পরে বদলি হয়ে কলিকাতা আলিয়া মাদরাসা অতঃপর তথা হতে হুগলি মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন।

তরিকতের নূরানী-রূহানী জিন্দেগিঃ শামসুল উলামা হযরত মাওলানা গোলাম সালমানী আব্বাসী রহিমাহুল্লাহ. সুফী ফতেহ আলী ওয়ায়েসী রহিমাহুল্লাহর সুযোগ্য খলিফা ছিলেন। একই গ্রামের বাসিন্দা ফুরফুরার মুজাদ্দেদে জামান হযরত মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকী আল কুরাইশী রহিমাহুল্লাহর পীর ভাই ছিলেন ।

উল্লেখ্য, কলিকাতা মাদরাসায় শিক্ষকতাকালীন সময়ে মাদরাসার পূর্বে অবস্থিত বিবি সালেট মসজিদে তরিকতের তালিম দিতেন।

বিশিষ্ট খলিফাবৃন্দঃ  শামসুল উলামা হযরত মাওলানা গোলাম সালমানী আব্বাসী রহিমাহুল্লাহর শীর্ষ স্থানীয় খলিফাবৃন্দের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেনঃ হযরত মাওলানা সৈয়দ আবদুল বারী শাহ রহিমাহুল্লাহ। শাহ সাহেব প্রথমে হযরত মাওলানা মিয়া করিম বক্স রহিমাহুল্লাহর মুরিদ ছিলেন পরে মাওলানা গোলাম সালমানী রহিমাহুল্লাহর নিকট মুজাদ্দেদিয়া তরিকার বায়েত এবং খেলাফাত প্রাপ্ত হন।

উল্লেখ্য, সৈয়দ আবদুল বারী শাহ রহিমাহুল্লাহর এর বিশিষ্ট মুরীদ ছিলেন হযরত মাওলানা হামেদি হাসান আলাভী আজমগড়ি রহিমাহুল্লাহ

উল্লেখ্য, শাহ মাওলানা হামেদ হাসান আলভী রহিমাহুল্লাহ.স্বীয় মুর্শেদ হযরত মাওলানা গোলাম সালমানী আব্বাসী রহিমাহুল্লাহ. এর নির্দেশনায় সর্বপ্রথম যে জায়গায় তরিকত তথা দ্বীনী সফর করেছিলেন তা ছিল বার আউলিয়ার ধন্য ভূমি, উপমহাদেশে ইসলামের প্রবেশদ্বার (বাবল ইসলাম), ইসলামাবাদ,  চট্টগ্রাম

(https://sufibad24.com/post/17541/#সূফি_মাওলানা_গোলাম_সালমানী_আব্বাসী_রহর_নির্দেশক্রমে_তরীক্বতের_সফরঃ)

আয়নায়ে মুনীরী গ্রন্থমতে শাহ মাওলানা হামেদ হাসান আলভী রহিমাহুল্লাহ চট্টগ্রাম আসলে প্রথমে হালিশহর, ফেরার পথেও হালিশহর হয়ে ফিরতেন। হালিশহরের হাফেজ সৈয়দ মুনীর উদ্দীন নূরুল্লাহ রহিমাহুল্লাহ-কে সাত তরিকার খেলাফত বখশিশ করেন।

উল্লেখ্য, চুনতির হযরত মাওলানা নজির আহমদ শাহ ছাহেব রহিমাহুল্লাহর দাদার প্রথম সন্তান হযরত শাহ মাওলানা ফয়েজ আহমদ (রহ.) পিতার জমিদারি এস্টেট দেখভাল করার জন্য ঘন ঘন আরাকান যাওয়াআসা করতেন। অন্যদিকে শাহ মাওলানা হামেদ হাসান আলভী রহিমাহুল্লাহ  চট্টগ্রাম শহরে তরিকতের সফরে আসলে  হযরত মাওলানা  ফয়েজ আহমদ উনার পীর আজমগড়ী হযরতকে চাকতাই থেকে বৃহদাকৃতির গদু নৌকা যোগে ঢলু নদীর গাটিয়াডাংগা ঘাটে পৌছান। তথা হতে ছোট নৌকায় আধুনগর নৌঘাটে নিয়ে যান। তথা হতে ঘোড়া/তাঞ্জানে করে চুনতির হযরত মাওলানা নজির আহমদ  শাহ ছাহেব রহিমাহুল্লাহর. এর  পৈতৃক বাড়িতে পৌছাতেন।সে সুবাদে এ সময় চুনতির  মাওলানা নজির আহমদ শাহ ছাহেব রহিমাহুল্লাহ আরাকানে সুদূর  ভারতের  উত্তর প্রদেশ হতে আগত  মহান সূফী দরবেশ পীর হযরত আলহাজ্ব শাহ মাওলানা হামেদ হাসান আলভী (রহ.)’র মোলাকাত পান এবং হযরতের সুদৃষ্টি পেতে থাকেন। এক পর্যায়ে চুনতির হযরত মাওলানা নজির আহমদ  শাহ ছাহেব রহিমাহুল্লাহ শাহ মাওলানা হামেদ হাসান আলভী রহিমাহুল্লাহর নিকট বায়াত গ্রহণ করে মুরিদ হন।  

হযরত মাওলানা নজির আহমদ শাহ ছাহেব রহিমাহুল্লাহ ছিলেন অসাধারণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী। দেশ বিদেশের প্রখ্যাত আলেমগণ যখনই উনার সান্নিধ্যে আসতেন তেনার কোরআন হাদীসের আলোচনা শুনে মুগ্ধ হয়ে যেতেন। হযরত শাহ ছাহেব রহিমাহুল্লাহ আরাকানে থাকা অবস্থায় শবে কদরের রাতে ফানাফির রাসূল হিসেবে নিজেকে নিজে হারিয়ে ফেলেন। দীর্ঘ প্রায় ৩৭ বছর পাহাড়ে পর্বতে লোকালয়ে বিচরণ করতে থাকেন রাত দিন এবং এই বলে নিম্নলিখিত পঙক্তি আউড়াতে থাকতেনঃ

“হাম মাজারে মুহাম্মদ () পে মর জায়েঙ্গে, জিন্দেগি মে য়াহি কাম কর জায়েঙ্গে”। (অর্থাৎ) হযরত মুহাম্মদ ()’এঁর উদ্দেশ্যে আমার জীবন উৎসর্গীত, সারা জীবন তাঁর ধ্যানেই আমি থাকব নিয়োজিত।https://www.chatgarsangbad.net/chunati-hazrat-shah-saheb-and-his-achievements/

 মুজাদ্দেদিয়া ত্বরিকতের উজ্জ্বল নক্ষত্র হযরত মাওলানা হাফেজ হামেদ হাসান আলভী আজমগড়ী (রহঃ) (ইন্ডিয়া) এর পীর অলিকুল শিরোমণি হযরত মাওলানা আবদুল বারী শাহা (র.) এর কবর,বান্ডেল রেল স্টেশন,হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ,ভারত  অবস্থিত। উল্লেখ্য,হযরত আব্দুল বারী( রহিমাহুল্লাহ.) এর কবর অত্যন্ত সাদাসিধে, যার উপরে কোন ছাউনি নেই। বিদয়াত শিরকের ছোঁয়া এই আল্লাহর অলির কবরে নেই।💗https://www.facebook.com/718991818304675/posts/1331601173710400/

মুজাদ্দেদিয়া ত্বরিকতের উজ্জ্বল নক্ষত্র হযরত মাওলানা হাফেজ হামেদ হাসান আলভী আজমগড়ী (রহিমাহুল্লাহ) এর সাথে চট্টগ্রামের কতিপয় সিলসিলার আধ্যাত্মিক নেসবত প্রসঙ্গে

হযরত মাওলানা হাফেজ হামেদ হাসান আলভী আজমগড়ী (রহিমাহুল্লাহ) হলেন প্রখ্যাত আল্লাহর অলিঃ

মুজাদ্দেদিয়া ত্বরিকতের উজ্জ্বল নক্ষত্র হযরত মাওলানা হাফেজ হামেদ হাসান আলভী আজমগড়ী (রহিমাহুল্লাহ) চুনতি দরবারের মাওলানা নজির আহমদ (রহিমাহুল্লাহ)সহ বিখ্যাত আরো অনেক আল্লাহর অলির আধ্যাত্মিক জগতের পথ প্রদর্শক ছিলে।

এছাড়া,

গারাঙ্গিয়া দরবারের

 👉 হযরত শাহ মাওলানা আবদুল মজীদ বড় হুজুর (রহিমাহুল্লাহ)

👉  হযরত শাহ মাওলানা আবদুর রশীদ হামেদী সিদ্দীকি প্রকাশ ছোট হুজুর (রহিমাহুল্লাহ)

হালিশহর দরবারের

👉 হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ (রহিমাহুল্লাহ)

দক্ষিণ চট্টগ্রামের চুনতীতে পর পর শায়িত রয়েছেন আজমগড়ী হযরতের মহান তিন  সুযোগ্য খলিফাবৃন্দ। তাঁরা হলেন হযরত শাহ মাওলানা ফজলুল হক (রহিমাহুল্লাহ), হযরত শাহ মাওলানা নজির আহমদ (রহিমাহুল্লাহ) ও হযরত শাহ মাওলানা হাকিম মুনীর আহমদ (রহিমাহুল্লাহ।

 পাহাড়ের উপর  অবস্থিত  চুনতীর প্রাচীন কবরস্থানে  এই মহান তিন অলি পর পর শায়িত। একই কম্পাউন্ডে আরও শায়িত রয়েছেন হযরত হাকিম শাহ মাওলানা তোফাজ্জলুর রহমান (রহিমাহুল্লাহ.)ও হযরত শাহ মাওলানা হাবিব আহমদ (রহিমাহুল্লাহ.)  প্রমুখ।

হযরত শাহ মাওলানা ফজলুল হক (রহিমাহুল্লাহ):

হযরত শাহ মাওলানা ফজলুল হক (রহিমাহুল্লাহ) (চুনতীর প্রাচীন কবর স্থান.) চট্টগ্রাম অঞ্চলের একজন ক্ষণ জন্মা ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি এককালে চট্টগ্রাম থেকে আকিয়াব পর্যন্ত শরীয়ত ও তরিক্বতের বিশাল ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার চুনতী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হযরত সাইয়েদ আহমদ বেরলভী (রহিমাহুল্লাহ.) এর অন্যতম খলিফা হযরত আবদুল হাকিম (রহিমাহুল্লাহ) (যার নামে চুনতী মাদ্রাসার নামকরণ) এঁর নাতি।

তিনি প্রাথমিক শিক্ষা নিজ গ্রামে সমাপ্ত করেন। অতঃপর তাঁর মামা হযরত মাওলানা খান বাহাদুর ওয়াজিউল্লাহ ছিদ্দিকী সাহেবের ভারতের উত্তরে প্রদেশস্থ কর্মস্থলে (সাব-জজ) অবস্থান করে পরবর্তী ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করেন। মামার মৃত্যুতে চাচা মাওলানা আবদুর রশিদ ছাহেবের তত্ত্বাবধানে কলকাতা আলীয়া মাদ্রাসা হতে ধর্মীয় উচ্চতর শিক্ষা সমাপ্ত করেন। ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে দেশে ফিরে এসে তিনি নিজ গ্রামস্থ চুনতী “সামিয়া মাদ্রাসার (হাকিমিয়া মাদ্রাসার সাবেক নাম) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দের ১২ কার্তিক প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ে “সামিয়া মাদ্রাসা দারুণভাবে ক্ষতি গ্রস্ত হয়ে যায়। তখন তিনি রেঙ্গুন চলে যেতে পরিস্থিতিগত কারণে বাধ্য হন। তথায় একটি উর্দু মিডিয়াম মাদ্রাসার প্রধান হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। অতি অল্প কালের মধ্যে তিনি “গ্রান্ডমুফতিহিসেবে প্রসিদ্ধ লাভ করেন।

 ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে হযরত শাহ মাওলানা ফজলুল হক (রহিমাহুল্লাহ) আকিয়াবে হযরত মাওলানা হাফেজ হামেদ হাসান আলভী আজমগড়ী (রহিমাহুল্লাহ.) এঁর সান্নিধ্য লাভ করেন এবং তাঁর হাতে তরিক্বতে দাখিল হন। পরবর্তীতে তিনি খেলাফত লাভ করেন। এর আগে কলকাতা অবস্থান কালীন হযরত সূফি গোলাম সালমানী ((রহিমাহুল্লাহ.) ও হযরত সাইয়েদ আবদুল বারী (রহিমাহুল্লাহ.) এঁর সংস্পর্শ লাভ করেছিলেন। হযরত সূফি ফতেহ আ’লী ওয়াইসী (রহিমাহুল্লাহ.) এঁর সাথেও তাঁর রুহানী সম্পর্ক ছিল ।

অতঃপর হযরত শাহ মাওলানা ফজলুল হক (রহিমাহুল্লাহ) চুনতীস্থ নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। শরীয়ত ও তরিক্বতের        খেদমতে নিজেকে আত্ননিয়োগ করেন। আজমগড়ী হযরতের মুরিদগণ ছবক তওয়াজ্জু নিতেন। তিনি ছিলেন গরীব দরদী। তাঁর দানশীলতা ও মেহমানদারী ছিল উল্লেখ করার মত।

শরীয়ত বিরোধী কাজকর্ম ও কুসংস্কার তিনি এক দমপ্রশ্রয় দিতেন না। রিয়াজত, মুজাহেদা, মুরাকাবা ছিল তাঁর নিয়মিত আমল। নিজের জীবনে ১৫ হাজার বারের অধিক কুরআন খতম করেন। তিনি এক সাথে ৭ তরিক্বার খেলাফতপ্রাপ্ত। তাঁর জীবন অসংখ্য করা মতে ভরপুর। ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় পাঞ্জাব, বেলুচসহ বিভিন্ন রেজিমেন্টের সদস্যগণ তাঁর কাছে দোয়ার জন্য আসতেন।

হযরত মাওলানা ফজলুল হক (রহিমাহুল্লাহ.) আজমগড়ী হযরত (রহিমাহুল্লাহ.) এঁর এতদঞ্চলের প্রথম খলিফা।  তিনি আকিয়ার ও রেঙ্গুন থেকে দেশে ফিরে এসে শরীয়ত ও ত্বরিকত্বের খেদমতে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন।

তাঁর মহান পীর আজমগড়ী হযরত এতদাঞ্চলে তশরীফ আনলে তিনি সহায়তার ভূমিকা পালন করতেন। ছবক তওয়াজ্জুসহ নানা বিষয়ে আগত লোকজনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়াসহ নিজের পীরের সহায়তা করতেন।

এ মহান অলি ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দের ৩১ মে বৃহস্পতিবার নিজ গ্রামে ইন্তেকাল করেন। পর দিন শুক্রবার তাঁর জানাযায় তখনকার আমলে প্রায় ১০ হাজার লেকের সমাগম হয়েছিল। চুনতীর কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন বিশাল কবরস্থানে তিনি চির নিদ্রায় শায়িত আছেন।

হযরত মাওলানা ফজলুল হক (রহ.) এর ইন্তেকালের পর ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারী, বাংলা মাঘ মাস ইছালে ছওয়াব উপলক্ষে এক জেয়াফত তথা মেলা আয়োজন চলছিল। এ সংবাদ হযরত মাওলানা হাফেজ হামেদ হাসান আলভী আজমগড়ী হযরত-(রহিমাহুল্লাহ.) এঁর কানে যাওয়া মাত্র তিনি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং ‘ইয়ে সব্  বন্ধ কর বলে চুনতীতে সংবাদ পাঠিয়েছিলেন। সে থেকে এ অঞ্চলে আজমগড়ী হযরতের খলিফাগণের ইন্তেকালের পর জেয়াফত, ওরশ, মেলা ইত্যাদি করা বন্ধ হয়ে যায়।

  হযরত শাহ মাওলানা নজির আহমদ (রহ.):

হযরত শাহ মাওলানা নজির আহমদ (রহিমাহুল্লাহ.) হযরত মাওলানা হাফেজ হামেদ হাসান আলভী আজমগড়ী (রহিমাহুল্লাহ) এঁর অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন খলিফা ছিলেন।

তিনি ইন্তেকাল করেছেন ১৯৪৪ ঈসাব্দের জুলাই অথবা আগস্ট মাসে তথা বাংলা শ্রাবণ মাসে। একথা জানিয়েছেন তাঁর সুযোগ্য একমাত্র সন্তান হযরত আলহাজ্ব মাওলানা হাবিব আহমদ (রহিমাহুল্লাহ)। তিনি আরও জানান, তাঁর মরহুম পিতা ৫৪ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। এতে প্রতীয় মান হয় যে, হযরত মাওলানা নজীর আহমদ (রহ.) ১৮৯০ ঈসাব্দের দিকে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর মায়ের কাছে এবং তাঁর নানা হযরত মাওলানা কাজী ইউসুফ ছাহেব (রহিমাহুল্লাহ) এর তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন।

অতঃপর চট্টগ্রাম শহরস্থ মোহসেনিয়া মাদ্রাসায় (বর্তমানে মহসিন কলেজে) ভর্তি হন। মোহসেনিয়া মাদ্রাসা  থেকে ফাজিলপাস করার পর মায়ের একমাত্র ছেলে হওয়ায় পারিবারিক প্রতিবন্ধকতার কারণে কলকাতা বা দেওবন্দ গমন না করে চট্টগ্রাম দারুল উলুম আলীয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। তার আগে তিনি কিছুদিন মোহসেনিয়া মাদ্রাসায়  শিক্ষকতা করে ছিলেন বলে জানা যায়। তিনি সারাজীবন তরিক্বতের খেদমতের পাশাপাশি দারুল উলুম মাদ্রাসার অন্যতম আর্কষণীয় হেড মাওলানা হিসেবে জীবন কাটিয়ে দেন।

তিনি একজন উচ্চমানের পীর কামেল হয়েও চট্টগ্রাম দারুল উলুম মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে ওস্তাজুল আসাতুজা হিসেবে প্রসিদ্ধ লাভ করেন। শুধু তাই নয়, বৃহত্তর চট্টগ্রামে আলেম সমাজসহ সব মহলে তিনি অতি উচ্চ মানের শ্রদ্ধাভাজন আলেমে দ্বীন হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত।

প্রাথমিক জীবনে দারুল উলুম মাদ্রাসায় সামান্য বেতনে অতি সাধারণভাবে কোন মতে জীবনযাপন করতেন। কিন্তু মহান আল্লাহপাকের বিশেষ মেহের বাণীতে কবিরাজী হেকিমী ফর্মুলার সংমিশ্রণেবরশ নামে এত মোদক (হালুয়া) জাতীয় ঔষধ তৈরি ও বিক্রির মাধ্যমে তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যায়। এ ঔষধ বিক্রির ওসিলায় তিনি শহরে ও গ্রামে যে সেবা প্রদান করেছেন। তাঁর এ সেবার পাশাপাশি উপার্জন হতে নিদর্শন স্বরূপ চন্দনপুরাস্থ ঐতিহ্যবাহী বরশবিল্ডিং এবং চুনতীতে ১৯৩৬/৩৭ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতল পাকা ভবন নির্মাণ করেন। তিনি সহায়-সম্পদসহ ধর্মীয় ও সামাজিক কাজে বিশেষ অবদান রেখে যান। বিশেষ করে চুনতী হাকিমিয়া আলীয়া মাদ্রাসা তাঁর অমরকীর্তির স্মৃতি বহন করে চলছে।(সূত্রঃ ১.

http://chunati.com/illustriousperson/illustriouspersonitem.aspx?messageid=136 ২. www.ahmadulislamchowdhury.info)। 

ফুরফুরা-গারাংগিয়ার  দীনী নেসবতনামাঃ ফুরফুরা দরবারের পীর মুজাদ্দেদে জামান হযরত মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকী আল কুরাইশী রহ. এর পীর ভাই->শামসুল উলামা হযরত মাওলানা গোলাম সালমানী রহিমাহুল্লাহ এঁর খলিফা>হযরত মাওলানা-বারী শাহ এর খলিফাহযরত মাওলানা হাফেজ হামেদ হাসান আলভী আজমগড়ী (রহিমাহুল্লাহ)এঁর খলিফা> হযরত শাহ মুহাম্মাদ আবদুল মাজিদ রহিমাহুল্লাহ।

দরবারে আলীয়া গারাংগিয়ার খলিফা শাহ মাওলানা মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন মজিদী রহিমাহুল্লাহর আধ্যাত্মিক জীবন কথা

চট্টগ্রামের কদমতলী বায়তুল জান্নাত মসজিদে কিংবা আশপাশে ফুরফুরা দরবারের গদ্দীনসীন পীর সাহেব হযরত মাওলানা আবুল আনসার মুহাম্মাদ আবদুল কাহহার সিদ্দিকী আল কুরাইশী রহিমাহুল্লাহ তাশরিফ আনলে অত্যন্ত তাজীমের সাথে পীর সাহেবকে হযরত মাওলানা কামাল উদ্দীন মজীদি রহিমাহুল্লাহ ইস্তেকবাল করতেন। একবার পীর সাহেবেকে জুব্বা হাদিয়া দেন।তরুন বয়সে পীর সাহেবের আব্বা হুযুর শাইখুল ইসলাম হযরত মাওলানা আবদুল হাই সিদ্দিকী রহিমুহুল্লাহ যখন চট্টগ্রামের লালদিঘিতে মাহফিল করতেন অথবা নায়েবে মুজাদ্দেদ রহিমুহুল্লাহ যখন আগ্রাবাদ জাম্বুরী মাঠে ওয়াজ করতেন তাতে আন্তিরকতার সাথে শরীক থাকতেন এবং আধ্যাত্মিক জীবন পরিচালনায় তা অনুসরণীয় করতেন। 

يٰٓاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ وَكُوْنُوْا مَعَ الصّٰدِقِيْنَ   التوبة: ١١٩ )

“হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সঙ্গী হও”।[তাফসিরুল আহসানুল বায়ান]

। মহান আল্লাহর এই আহবানের উজ্জ্ল্বল বাস্তবায়ন দেখা যায় হযরত মাওলানা কামাল উদ্দিন মজীদী রহিমাহুল্লাহর দীনী জিন্দেগীতে।

আমাদের জানামতে, হযরত মাওলানা কামাল উদ্দিন মজীদী রহিমাহুল্লাহ ছাত্র অবস্থায় সোহবত এখতিয়ার করতেন

  কদমতলী বায়তুল জান্নাত মহল্লায় বসবাসকারী মীরশ্বরাইবাসী উপমহাদেশের অন্যতম বিশিষ্ট আলেমে দীন হযরতুল আল্লাম মাওলানা ওয়ালী আহামাদ রহিমাহুল্লাহর সাথে।

উল্লেখ্য, মীরশ্বরাই নিবাসী মাওলানা ওয়ালী আহামাদ রহিমাহুল্লাহর সাথে সৌদী আরবের তৎকালীন বাদশাহর সাথে দীনী সংক্রান্ত পত্র বিনিময় হয়েছে যাঁর সোহবত এখতিয়ারে আসতেন তৎকালীন আন্দরকিল্লা শাহী মসজিদের মুহতারাম খতিব আওলাদে রসূলহযরতুল আল্লাম সৈয়দ আবদুল করীম রহিমাহুল্লাহ, বায়তুশ শরফের প্রাণ প্রতিষ্ঠাতা মীর মুহাম্মাদ আখত্বর শাহ রহিমাহুল্লাহ উনার নিকটাত্মীয় (লেখকের নানাজান) ফুরফুরা দরবারের প্রতিষ্ঠাতা মুজাদ্দেদে জামান হযরত  আবু বকর সিদ্দিকী রহিমাহুল্লাহর খাস মুরীদ, ফুরফুরা দরবারের বিশিষ্ট খলিফা হযরত মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর পীর ভাই, উপমহাদেশের আজাদী আন্দোলনের অন‌্যতম কর্মী, আসামের মূখ্যমন্ত্রী স্যার সাদ উল্লাহর ব্যক্তিগত দীনী উপদেষ্টা, অআসামের গৌহাটী জামে মসজিদের পেশ ঈমাম, আল আজহার বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল হক রাউজানী রহিমাহুল্লাহ, জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের বন্ধুবর সূফী (এই লকব মাওলানা ওয়ালী আহামাদ রহিমাহুল্লাহ ‌কর্তৃক প্রদত্ত) জুলফিকার আলী, প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন সাহেবের আব্বাজান প্রমুখ। মীরশ্বরাইতে হযরতুল আল্লাম মাওলানা ওয়ালী আহামাদ রহিমাহুল্লাহর নামাযে জানাযার ইমামতি করেছিলেন মুজাদ্দেদে জামান আবু বকর সিদ্দিকী রহিমাহুল্লাহর বিশিষ্ট খলিফা হযরত মাওলানা আবদুল গণি (আউয়াল সাহেব) রহিমাহুল্লাহ।

হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ কামাল উদ্দিন মজিদী (রহ.)স্বীয় আত্মজীবনীতে লিখেনঃ

“বড় হুযুর, ছোট হুযুরের জীবৎকালে প্রথম খলিফা সম্মেলন গারাঙ্গিয়া মাদ্রাসার উত্তর পার্শ্বে একটি গুদাম ঘরে অনুষ্ঠিত হয়। এতে খলিফাগন নিজ নিজ তরিকতের কাজের বিবরণ দিচ্ছিলেন।যখন আমার তরিকতের কাজে বিবরণ দেওয়ার পালা আসলো, তখন আমি বড় হুযুর, ছোট হুযুরের উপস্থিতিতে বললাম, মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দেখি, অনেক মুসল্লি বিশুদ্ধভাবে কুরআন তেলাওয়াত করতে জানে না, অজু গোসল করার কোন নিয়ম কানুনও জানে না। তাই আমি তাদেরকে তরিকতের কাজে অন্তর্ভূক্ত না করে সহীহ শুদ্ধভাবে কুরআন পাঠ, পাক পবিত্র হওয়ার নিয়ম কানুন, নামাজের বিভিন্ন মাসায়ালা-মাসায়েল ও সময়মত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ শরীয়ত মোতাবেক পড়ার জন্য প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। সাথে সাথে মুসল্লিদেরকে বলি যে, তোমরা নামাজ কালাম ভালভাবে আদায় করলে আমি তোমাদেরকে পরবর্তীতে অন্য একটি বিষয় শিক্ষা দিব।

তারপর তাদের আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিদিন মাগরিবের নামাজের পর ফাতেহা শরীফ, এশার নামাজের পর দরুদ শরীফ এবং ফজরের নামাযের পর খতম শরীফ আদায় করার শিক্ষা দিতে শুরু করি।

আমার কথাগুলি শুনে বড় হুযুর রহ উচ্চস্বরে সবার সামনে বলে উঠেনঃ শরীয়তের আসল হচ্ছে পাক-নাপাক, সুরা কেরাত জানা। এগুলি না জানলে কীসের তরিকত? তিনি আরও বললেন, শরিয়তরা মোকাদ্দাম দারে আকনু, তরিকত আজ শরীয়ত নিস্তোবেদারো।

এ সময় পাশে থাকা হযরত ছোট হুযুর (রহ.)বললেন যে, আমার আজিজ (প্রিয়) মাওলানা কামাল যে কথাগুলো সবার সামনে বলেছেন সব ঠিকই বলেছেন। কেননা, আমাদের তরিকত শরীয়তের রূপ রেখা”।

জীবনের শেষ ইমামতি করেছিলেন আমাদের কদমতলী বায়তুল জান্নাত মহল্লার বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদে সুদীর্ঘ প্রায় তিন দশক ব্যাপী। প্রতি বৃহস্পতিবার দিবাগত জুমার রাতে বাদে এশা জিকিরের তালিম দিতেন। উক্ত জামে মসজিদে এতেকাফের সময় তিনি আমাদের নিকট সূরাহ ক্বিরত সহীহ শুদ্ধতা যাচাই করতেন।

তোমরা একটি উত্তম জাতি (আল কুরআন) মুসলমানের জান মাল পবিত্র। তাই সুন্নাত হচ্ছে মুসলমানদের চুল নোখের সম্মান করে যত্র তত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে না রাখা। হযরত মাওলানা কামাল উদ্দিন মজীদী রহিমাহুল্লাহকে দেখেছি, চুল কাটতে লিটনের সেলুনে আসলে কর্তিত চুল বাসায় নিয়ে যেতেন। আমরাও সেই থেকে আজও উনার দেখানো তরিকা অনুসারে এই সুন্নাত জিন্দা রাখতে আল্লাহর মেহেরবাণীতে সচেষ্ট আছি।

হযরত মাওলানা কামাল উদ্দীন মজীদী রহিমাহুল্লাহর উল্লেখযোগ্য শিক্ষকমন্ডলী

চট্টগ্রাম জেলার কাঞ্চননগরের হযরত মাওলানা ইসহাক রহিমাহুল্লাহ, জোয়ারার মুফতি মাওলানা শফী রহিমাহুল্লাহ, মাওলানা ইসলাম রহিমাহুল্লাহ, গারাঙ্গিয়ার হযরত মাওলানা আবদুল মজিদ রহিমাহুল্লাহ, হযরত মাওলানা আবদুর রশিদ রহিমাহুল্লাহ, মির্জাখিলের মুফতি সোলতান আহামাদ রহিমাহুল্লাহ, লোহাগাড়ার হযরত মাওলানা আহামাদ কবির রহিমাহুল্লাহ, বারদোনার হযরত মাওলানা মোবারক রহিমাহুল্লাহ, মাওলানা সালেহ আহামাদ রহিমাহুল্লাহ, মাওলানা মাওয়াব্বেল সাহেব রহিমাহুল্লাহ, মুহাদ্দেস মাওলানা আবদুর রশিদ সাহেব রহিমাহুল্লাহ, চট্টগ্রাম মহানগরীর চন্দনপুরায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দারুল উলুম মাদরাসার হযরত মাওলানা ফজলুর রহমান রহিমাহুল্লাহ,, মাওলানা আবদুল মান্নান রহিমাহুল্লাহ, মুহাদ্দিস মাওলানা আমিন রহিমাহুল্লাহ, মাওলানা ফুরকান রহিমাহুল্লাহ,, মাওলানা ইসমাঈল রহিমাহুল্লাহ, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী রহিমাহুল্লাহ,মাওলানা আবুল কাশেম রহিমাহুল্লাহ, মাওলানা নবাব হোসেন রহিমাহুল্লাহ প্রমুখ ওস্তাদে কেরাম। 

চট্টগ্রামস্থিত পাঠানটুলী সুলতান কলোনীতে বার্ষিক ইসালে সওয়াব মাহফিলে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভা প্রসংগে

শাহজাদা মাওলানা এ বি এম মুহিব্বুল্লাহ সাহেবের সভাপতিত্বে ও হাফেজ মাওলানা আরিফ উল্লাহর সঞ্চালনায় মাহফিলে অতিথি ছিলেন দরবারে গারাংগিয়ার খলিফা শাহ মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল হালিম রশিদী, বায়তুশ শরফ আলীয়ার উপাধ্যক্ষ মাওলানা আমিনুল ইছলাম, কাজী মাওলানা মফজল আহমদ, দরবারে আলীয়া গারাংগিয়া আগ্রাবাদ খানকার সাধারণ সম্পাদক আহমদ হোছাইন, দরবারে ফারুকী ইংল্যান্ডের খলিফা আলহাজ শাহ মাওলানা মুহাম্মদ মোজহেরুল কাদের, মাহফিলে তকরির করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শাহ মাওলানা এনামুল হক মুজাদ্দেদী, ডা. আ স ম আবদুল মন্নান, মাওলানা তৈয়ব আলী মজিদী, মাওলানা সাইফুল্লাহ প্রমুখ। মাহফিল শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণে মুনাজাতের পর তবরুক বিতরণ করা হয়।  প্রেস বিজ্ঞপ্তি

(সূত্রঃ https://dailypurbodesh.com/বার্ষিক-ইছালে-ছওয়াব-মাহফ/)

ফুরফুরা-বায়তুশ শরফ নেসবতনামাঃ ফুরফুরা দরবারের পীর মুজাদ্দেদে জামান হযরত মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকী আল কুরাইশী রহিমাহুল্লাহ এঁর সুযোগ্য খলিফা মীর মুহাম্মাদ মাসউদ আলী রহিমাহুল্লাহ  এঁর সুযোগ্য সাহেবজাদা মীর মুহাম্মাদ আখত্বর  শাহ রহিমাহুল্লাহ।

আন্জুমানে ইত্তেহাদ-বাংলাদেশ, বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স

 কুতুবুল আলম হযরত শাহ সূফি আলহাজ্ব মাওলানা মীর মোহাম্মদ আখতার শাহ রহিমাহুল্লাহর পিতা “সৈয়দুল হুফফাজ হযরত শাহ সূফি মওলানা মীর মাসুদ আলী চিশতী নখশেবন্দি রহিমাহুল্লাহ ছিলেন দেওবন্দ হতে শিক্ষা প্রাপ্ত প্রসিদ্ধ মোহাদ্দেস, ফকিহ, হাফেজ ও আলেম, তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রসিদ্ধ পীর মোর্শেদ কুতুবুল এরশাদ হযরত শাহ মওলানা মোহাম্মদ আবু বক্কর সিদ্দিক (রাহঃ) এঁর খলিফা ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক দ্বীনি শিক্ষা নিকেতন মাদ্রাসায়ে দারুল উলুমের সম্মানিত শিক্ষক ছিলেন”। সূত্রঃ https://dainikazadi.net/বায়তুশ-শরফ-দরবারের-প্রতি/)।

 হযরত শাহ সূফি আলহাজ্ব মাওলানা মীর মোহাম্মদ আখতার (রাহঃ) এঁর বাসস্থান হচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগরীর পূর্ব মাদারবাড়ীস্থিত মীর বাড়ী।

 কথিত আছে,  মীর মোহাম্মদ আখতার (রাহঃ) এঁর মুখে প্রথম কথা ফুটে পবিত্র আল্লাহ, শব্দ দিয়ে। শিশুকালেই তিনি দোলনায় কারো শিখিয়ে দেয়া ছাড়া আপনা আপনি আল্লাহ আল্লাহ জিকির করতেন ।

 চট্টগ্রামের চন্দনপুরায় অবস্থিত দারুল উলুম মাদ্রাসা থেকে সসম্মানে ফাজিল পাশ করে তিনি হাদীস শিক্ষার জন্য ভারতের দেওবন্দ আলীয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখানে হোস্টেলে অবস্থানকালে স্বপ্ন যোগে ছরকারে দো জাহান নবী করিম () কর্তৃব আদিষ্ট হন সোলতানুল হিন্দ হযরত খাজা মাঈন-উদ্দীন চিশতি সন্জরী রহিমাহুল্লাহ এঁর দরবারে হাজির হয়ে একজন বিশেষ মহান ব্যক্তির হাতে বায়াত হতে। তিন বার পর পর এ নির্দেশ পাওয়ার পর তিনি তাঁর ওস্তাদ প্রসিদ্ধ মোহাদ্দেস মুফতি শফি সাহেবের পরামর্শে মাদ্রাসা থেকে ছুটি নিয়ে খাজা মাঈন-উদ্দীন চিশতি সন্জরী রহিমাহুল্লাহ এঁর দরবারে হাজির হন। তথায় পৌঁছার পরের দিনই দরবারের শাহজাহান মসজিদে ঐ বিশেষ মহান ব্যক্তির দেখা পান। তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করেন- তোমার নাম মীর মোহাম্মদ আখতার না? তিনি জওয়াব দিলেন ‘জি’, আমি দেওবন্দ থেকে এসেছি। অতঃপর পীর মোর্শেদের নির্দেশে প্রতি বছর খাজা মাঈন-উদ্দীন চিশতি সন্জরী রহিমাহুল্লাহ এঁর দরবারে হাজিরা দিতে থাকেন এবং প্রতিবারে পীর মোর্শেদের তোয়াজ্জ্বের বরকতে তাঁর আধ্যাত্মিক নাজ-নেয়ামত সমৃদ্ধতর হতে থাকে। 

অবশেষে মহান শাইখের জীবনের শেষ সফরে তিনি তাঁকে তরিকতে আলীয়ায়ে কাদেরীয়ার তাঁর আয়ত্তের শেষ ছবক দান করেন এবং নির্দেশ দেন-তোমার সাথে আমার আর দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যে সম্পদ আমি আল্লাহর তরফ থেকে আমার পীর মোর্শেদের মাধ্যমে লাভ করেছিলাম তা আজ আমি তোমাকে অর্পন করে গেলাম। আমার আজীবন অনুসৃত তরিকত-খালেছ তরিকায়ে আলীয়ায়ে কাদেরিয়ার প্রচার ও প্রসারের দায়িত্ব আমি তোমাকে দিয়ে গেলাম।

মহান পীর মোর্শেদের অর্পিত দায়িত্ব তার সার্থক উত্তরাধিকারীরা কত বিস্ময়করভাবে বায়তুশ শরফ আঞ্জুমানে ইত্তেহাদ বাংলাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়িত করেছেন, করছেন এবং ইনশা আল্লাহ করবেন বাংলাদেশ ও দেশের বাইরে প্রায় ৭০০টি আধ্যাত্মিক শিক্ষা ও জনহীতকর প্রতিষ্ঠান, খানকা ও মসজিদসমূহ তার জীবন্ত উদাহরণ। 

হযরত শাহ সূফি আলহাজ্ব মাওলানা মীর মোহাম্মদ আখতার (রাহঃ) র্তার দ্বীন ও তরিকতের প্রচার ও প্রসার কর্মসূচিতে সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছেন এলম ও আমলের উপর। ১৯৭১ সালে পবিত্র হজ্ব পালনের পর পবিত্র মিনা হসপিটালে ইন্তেকাল করেন।

গারাঙ্গিয়া থেকে বায়তুশ শরফ

শাহ মুহাম্মাদ আবদুল জাব্বার রহিমাহুল্লাহর মুর্শিদ ছিলেন কুতুবুল আকতাব শাহ সুফী হযরত মাওলানা মীর আখতার (রহিমাহুল্লাহ রহ:)। মাওলানার মুর্শিদ একজন আধ্যাত্মিক জ্ঞানসম্পন্ন কামেল মানুষ ছিলেন। মাওলানা শাহ আবদুল জাব্বার রহিমাহুল্লাহ যখন আলিম ক্লাসে পড়তেন তখন তাঁর মুর্শিদ কুতুবুল আকতাব মাওলানা মীর আখতার (রহ:) গারাঙ্গিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক সভায় প্রধান মেহমান হিসেবে আসেন। এ সভায় শাহ মুহাম্মাদ আবদুল জাব্বার রহিমাহুল্লাহর পরিবেশিত না’ত–ই রসূলুল্লাহ  শুনে তাঁর মুর্শিদ তাঁকে পূর্ণ স্নেহের মায়াবন্ধনে আবদ্ধ করে ফেলেন। যখন তাঁর মুর্শিদ বড়হাতিয়ার কুমিরাঘোনায় এসেছেন তখনও মাওলানাকে খুজেন। তাঁর না’ত শুনতেন। আরেকদিন মাওলানার না’ত শুনে মুর্শিদের চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে অন্যরূপ ধারণ করে। বেঁহুশ অবস্থায় মাটিতে পড়ে যায়। মাওলানার সাথে তাঁর মুর্শিদের সাক্ষাতের পর থেকে সময়ে-অসময়ে মাওলানার না’ত শুনে মাওলানা নিজের অজান্তে মুর্শিদের সুনজরে আসেন।

এমনকি সাতকানিয়া গারাঙ্গিয়ার হযরত শাহ মাওলানা আবদুল মজিদ রহিমাহুল্লাহ সাহেব প্রকাশ বড় হুজুর, চট্টগ্রাম শাহী জামে মসজিদের পেশ ইমাম আওলাদে রাসূল  ছৈয়দ আবদুল আহাদ মাদানী রহিমাহুল্লাহও মাওলানাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন। অবশেষে ১৯৪৮ সালে আলিম প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত অবস্থায় পবিত্র শবে-বরাত’র রজনীতে তাঁর মুর্শিদ মাওলানা মীর মোহাম্মদ আখতার রহিমাহুল্লাহ তাঁকে বয়াত করান। 

চট্টগ্রাম ষ্টেশন রোডস্থিত জামে মসজিদে মুর্শিদের (কুতুবুল আকতাব শাহ সুফী হযরত মাওলানা মীর আখতার (রহিমাহুল্লাহ রহ:) এর হুজরাখানায় মুর্শিদের নির্দেশে মাওলানা (শাহ মুহাম্মাদ আবদুল জাব্বার রহিমাহুল্লাহ ) না’ত শুনালেন। তখন তাঁকে মুর্শিদ বুকে জড়িয়ে ধরে প্রাণভরে দোয়া করেন। বিদায় দেওয়ার প্রাক্কালে উপস্থিত সকলকে লক্ষ্য করে বললেন যে,  তোমরা সকলে মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বারকে সম্মান করবে। 

লোহাগাড়া উপজেলার দরবেশহাটের উত্তর পাশে মাওলানা ও মুর্শিদ  এক মাহফিলে যাচ্ছিলেন। যাত্রাপথে মাগরিবের নামাজ শেষে শাহপীর রহিমাহুল্লাহ এঁর মাজার জেয়ারত করেন। জেয়ারতের এক পর্যায়ে মুর্শিদ উপস্থিত সকলকে বললেন শাহপীর আউলিয়ার মধ্যস্থতায় সাইয়্যেদুনা হযরত বড় পীর রহিমাহুল্লাহর পক্ষ থেকে বাতেনী সংবাদ তোমাদের নিকট আব্দুল জব্বার নামের যে ছেলে দাঁড়িয়েছে সে আমার রুহানি ছেলে। মুর্শিদের নির্দেশে পাঁচলাইশ ওয়াজেদিয়া মাদ্রাসার মোহাদ্দেসের চাকুরী চেড়ে চট্টগ্রামের কদমতলীতে রওশন জামে মসজিদ চত্বরে অবস্থিত আস্তানায় (ধনিয়ালাপাড়া বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স এর পুর্ববর্তী) মুর্শিদের সান্নিধ্যে চলে আসেন। তখন থেকে মুর্শিদের সাথে মাওলানার ভাব বিনিময় হয়। শুরু হয় মাওলানার কঠিন অনুশীলন। সমগ্র রজনী মাওলানা আল্লাহর জিকির ও ইবাদাত বন্দেগীর মাধ্যমে অতিবাহিত করতেন। এভাবে তিনি কঠোর সাধনায় মারফতের প্রগাঢ় জ্ঞানের অধিকারী হয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভে সমর্থন হন। হযরত মীর মোহাম্মদ আখতার রহিমাহুল্লাহ তাঁর খেলাফতের দায়িত্ব অর্পণের জন্য হযরত আল্লামা শাহ মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার রহিমাহুল্লাহ-কে গড়ে তুলেন। তাঁর মুর্শিদ তাঁকে কুতুবুল আখতার অর্থাৎ কুতুবদের কুতুব বলেছেন। মাওলানার মুর্শিদ উপস্থিত সকলকে মাওলানার পেছনে মোনাজাত করতে বলতেন। ভবিশ্যতে সবাইকে মাওলানার পেছনে থাকতে হবে বলতেন।

মাওলানার মুর্শিদ চট্টগ্রামের পূর্ব মাদার বাড়িতে তাঁরই কাছের 'মাদারবাড়ী জামে মসজিদে' পবিত্র জুমার নামাজ আদায় করতেন। প্রতি বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের পর তাঁর মুর্শিদ কর্তৃক জিকির ও দোয়া মাহফিল হত। 

মাওলানার মুর্শিদ ভক্তদের অভিপ্রায়ে চট্টগ্রামের কদমতলী রওশন মসজিদের অদূরে ঢাকা ডি.টি.রোডস্থিত (বর্তমানে শাহ আবদুল জাব্বার রহিমাহুল্লাহ রোড) ধনিয়ালাপাড়ায় একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিলেন। ১৯৬৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বায়তুশ শরফ নামে মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হয় এবং ২১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে উক্ত  বাইতুশ শরফ মসজিদে প্রথম তারাবী শুরু হয়। 

২২ নভেম্বর মাওলানার মুর্শিদের ইমামতিতে জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেদিনই তাঁর মুর্শিদ এ মসজিদের নাম ঘোষনা করেন “মসজিদে বায়তুশ শরফ”। মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা কুতুবুল আলম শাহ সুফী হযরত মাওলানা মীর আখতার রহিমাহুল্লাহ ১৯৭১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী সৌদি আরবে পবিত্র হজ্ব পালনকালে ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকালের আগে তিনি খেলাফতের দায়িত্ব হযরত আল্লামা শাহ মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার রহিমাহুল্লাহ এর উপর অর্পন করেন।

দায়িত্ব পেয়ে তিনি ইসলামের মশাল নিয়ে ধর্মসংস্কারক হিসেবে এগিয়ে যান। তিনি সমাজ থেকে মদ-জুয়া, ব্যভিচার-শিরক, বিদআত দূর করতে তৎপর ছিলেন। 

উদাহরণ সরূপ, লোহাগাড়া উপজেলার দরবেশ হাট এলাকায় বার আউলিয়ার এক অলী হযরত শাহপীর (রহ:) এর মাজারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন যাবৎ ওরশের নামে অশালীন নাচ-গানের আসর হতো। শরীয়ত বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকত। মাওলানা তাঁর স্বীয় জাগতিক ও আধ্যাত্মিক শক্তির প্রভাবে এসব কর্মকান্ড উচ্ছেদ করে সেখানে ওয়াজ-নছিহত ও মিলাদ মাহফিলের ব্যবস্থা করলেন।

ড়হাতিয়ায় প্রতিবছর ১২-১৩ বৈশাখ বলি খেলা অনুষ্ঠিত হত। দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে এ বলি খেলা হয়ে আসছিল।  মাওলানা ১৯৭৭ সালে বলি খেলা বন্ধ করে ঐ স্থানে ১১-১২ বৈশাখ (১৯৭৭ সাল থেকে) সীরত মাহফিলের আয়োজন করেন। জাবালে সীরত বা সীরতের পাহাড় হিসেবে এ পাহাড় বেশ পরিচিতি লাভ করে। 

উল্লেখ্য, খুলনার বাগেরহাটে উপমহাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সূফী দরবেশ হযরত খানজাহান আলী রহিমাহুল্লাহর মাজারকে কেন্দ্র করে মদ,গাজাসহ নানা রকম অনৈসলামিক যে গর্হিত কাজ যুগ যুগ ধরে চলে আসছিল- সুদূর চট্টগ্রামের বায়তুশ শরফের মর্দে মুজাহিদ মুরিদানদের নিয়ে শাহ মুহাম্মাদ আবদুল জাব্বার রহিমাহুল্লাহ, পীর সাহেব জিহাদী জজবায় এসব বেশরাহ কাজের মুলোৎচ্ছেদ করে মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবাণীতে তথায় শরীয়তি পরিবেশ ফিরিয়ে আনেন।

শাহ মুহাম্মাদ আবদুল জাব্বার রহিমাহুল্লাহ, জীবদ্দশায় অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা, মসজিদ, এতিমখানা, দাতব্য চিকিৎসালয়, সেবা ও কর্মসংস্থানমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। তিনি ইসলামী ব্যাংক, চট্টগ্রাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি অনেক দীনী গ্রন্থ রচনা করেন। 

তিনি ১৯৯৮ সালের ২৫ মার্চ সকালে ইন্তেকাল করেন। পরদিন ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে চট্টগ্রাম রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে অগণিত মুরিদীন-মুহিব্বিন-মুসল্লিয়ে কেরামদের উপস্থিতিতে তার নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় বায়তুশ শরফ মসজিদ ও বায়তুশ শরফ আদর্শ আলীয়া মাদ্রাসা চত্বরে মাওলানাকে চিরন্তন শয্যায় শায়িত করা হয়।সূত্রঃ লোহাগাড়া ইতিহাস ও ঐতিহ্য ] 

ফুরফুরা-বায়তুশ শরফ নেসবতঃ

ফুরফুরা দরবারের গদ্দীনশীন পীর আমিরুল ইত্তেহাদ, হযরত মাওলানা আবুল আনসার মুহাম্মাদ আবদুল কাহহার সিদ্দিকী আল কুরাইশী রহিমাহুল্লাহ নায়েবে মুজাদ্দেদ চট্টগ্রাম দীনী সফরে আসলে বায়তুশ শরফ না আসলে যেন তৃপ্ত হতেন না।আমিরুল ইত্তেহাদ একবার বায়তুশ শরফ মসজিদে প্রবেশ করে ঘোষণা করেনঃ বায়তুশ শরফ আমার

উল্লেখ্য, একবার কক্সবাজার বায়তুশ শরফের এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বায়তুশ শরফের মুহতারম পীর হযরতুল আল্লাম, বাহারুল উলুম মাওলানা কুতুব উদ্দীন সাহেব রহিমাহুল্লাহ, মসজিদ বায়তুশ শরফের মুহতারম খতীব সাহেব কক্সবাজার তশরীফ আনেন। এমতাবস্থায় ফুরফুরা দরবারের চট্টগ্রাম মার্কায থেকে আমাদের দায়িত্ব দেওয়া হয় “ফুরফুরার পীর সাহেব বায়তুশ শরফে জুমার নামায আদায়ের” সংবাদ জানানোর জন্য। এই সংবাদ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় বায়তুশ শরফ দফতর থেকে কক্সবাজার জানানো হলে জুমার কিছুক্ষণ পূর্বেই মসজিদ বায়তুশ শরফের মুহতারম খতীব সাহেব এসে বায়তুশ শরফে পৌঁছে আমাদেরকে জানানঃ “আজ ফুরফুরা শরীফের পীর সাহেব আসছেন”! 

ফুরফুরা দরবারের গদ্দীনশীন পীর চট্টগ্রাম আসলে আমাদের (লেখকের) উপর দায়িত্ব দেওয়া হতো বায়তুশ শরফ কর্তৃপক্ষকে পীর সাহেবের আগমনের খবর জানানো। যখনই তিনি তাশরীফ আনতেন বায়তুশ শরফে আনন্দের বন্যা বইয়ে যেত মুরীদ-মুহেব্বীনদের মাঝে। ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম প্যারেড ময়দানে অনুষ্ঠিত জাতীয় উলামা-মাশায়েখ সম্মেলনের প্রধান অতিথি হিসাবে তাশরীফ আনেন নায়েবে মুজাদ্দেদ রহঃ উনি সম্মেলনে পৌঁছামা্ত্র বায়তুশ শরফের মুহতারাম পীর সাহেব মাইকে উপস্থিত সবাইকে এই বলে পরিচয় করিয়ে দেন যে, এই সেই হযরত মাওলানা আবদুল কাহহার সিদ্দিকী আল কুরাইশী সাহেব যাঁর পিতা আবদুল হাই সিদ্দিকী না হলে উপমহাদেশের আজাদী আন্দোলন স্বার্থক হতো না। (সুবহা-নাল্লাহি ওয়াবিহামদিহী সুবহা-নাল্লাহিল আ’জীম)    

 


Comments

Popular posts from this blog

ফুরফুরা দরবারের পীর মাওলানা আবুল আনসার মুহাম্মাদ আবদুল কাহহার সিদ্দিকী আল কুরাইশী (রহ.)